
মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রাব্বি (৩৪) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফরহাদ হোসেন (২২) হত্যাকাণ্ডের দুটি মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. হেদায়েত কোরাইশ, যিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তবে কোনো সাংগঠনিক পদে ছিলেন না। তিনি মেহেদী হাসান ও ফরহাদ হোসেন হত্যা মামলার ৯ নম্বর আসামি। মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের ছেলে হেদায়েত ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান। পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার একটি গলি থেকে আটক করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা, মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী এহসানুল হক জানান, তাঁকে আজ আদালতে হাজির করা হবে।
এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় দুজনকে আটক করা হলো। এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মামলার ১১ নম্বর আসামি রাকিব শিকদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মাগুরা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।
নিহত মেহেদী হাসান ছিলেন জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মাগুরা পৌরসভার বরুণাতৈল গ্রামের বাসিন্দা। ৪ আগস্ট, আন্দোলনের একপর্যায়ে মাগুরা শহরের ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান।
এ ঘটনার পর ১৩ আগস্ট, নিহত মেহেদীর ভাই ইউনুস আলী বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, বীরেন শিকদারসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়।
একই দিন, ছাত্র আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেনও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তিনি শ্রীপুর উপজেলার রায়নগর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। যদিও তাঁর পরিবার কোনো মামলা করেনি, তবে ২১ আগস্ট সদর উপজেলার বিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায়ও সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, বীরেন শিকদারসহ মোট ৬৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ঘটনার সময় তিনি নিজ চোখে দেখেছেন আসামিদের ছোড়া গুলিতে ফরহাদ নিহত হন।
মাগুরার এই হত্যাকাণ্ড দুটি নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।