বিকেএসপিতে খেলার সময় গত সোমবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেট তারকা তামিম ইকবাল। তবে বর্তমানে তিনি সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউ থেকে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি খুব দ্রুতই তার বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন, তবে আরও কয়েক দিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।
এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আরিফ মাহমুদ জানিয়ে বলেন, “তামিম বর্তমানে ভালো আছেন, খাওয়া-দাওয়া করছেন এবং অন্যান্যদের সাথে কথা বলছেন। সিসিইউ থেকে রুমে চলে যাওয়ার পর তাকে আরও এক-দুই দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। তারপর তাকে বাড়িতে পাঠানো হবে।”
তামিম ইকবাল আবার ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অবশ্য এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, তামিমের পূর্ণরূপে সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া দেখতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে। এরপর কার্ডিয়াক টিম এবং ফিজিওরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার আরও বলেন, “হার্ট অ্যাটাকের পর তামিমের শারীরিক অবস্থা খুবই গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, কারণ তাদের হার্ট অ্যাটাকের পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসকরা নিয়মিত ফলোআপ এবং জীবনযাত্রা পরিবর্তন করতে পরামর্শ দিয়েছেন। ডায়েট, শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শের মাধ্যমে তামিমকে সুস্থ রাখতে হবে।”
এছাড়া, হার্ট অ্যাটাকের কারণে তামিম মানসিকভাবেও কিছুটা ভেঙে পড়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেট তারকা কল্পনাও করতে পারেননি যে এমন একটি ঘটনা তার জীবনে ঘটবে। তবে, তার মানসিক অবস্থা মেনে নেওয়ার জন্য একজন মনোবিজ্ঞানী তার সাথে কাজ করছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, “তামিম নিজেকে মানতে পারছে না, এটা তার জন্য বড় একটি মানসিক চাপ। তবে এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যেই এমন প্রবণতা দেখা দেয়। আমরা একজন কাউন্সিলর নিয়োগ করেছি, যারা তার মানসিক অবস্থার ওপর কাজ করবে, এবং তার উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করবে।”
তামিম ইকবালের ক্রিকেটে ফিরে আসা বর্তমানে পুরোপুরি তার শারীরিক সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল। তার অবস্থা পর্যালোচনা করে, চিকিৎসকরা একে একে সিদ্ধান্ত নেবেন যে তিনি পুনরায় মাঠে ফিরতে সক্ষম কিনা।